এশিয়ান বাংলা ডেস্ক : কোনো মন্ত্রেই বাগ মানছে না ইরান। লাইনে আসছেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। শত্রুর প্রত্যেকটা পদক্ষেপে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কথার পিঠে কথা বলছেন, পাল্টা জবাব দিচ্ছেন, যা একেবারেই মানতে পারছেন না শক্তিধর শত্রু রাষ্ট্রগুলো।

এখন একটাই পথ, সরকার উৎখাত। প্রেসিডেন্ট রুহানিকে গদি থেকে নামানো। আর মার্কিনপন্থী কাউকে বসানো। সে লক্ষ্যেই এবার উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তো আগে থেকেই ছিল। এবার তার সঙ্গে জোট বেঁধেছে মুসলিম বিশ্বের ‘জাতশত্রু’ ইসরাইল।

ষড়যন্ত্রে হাত মিলিয়েছে ইরানের ঘরের পাশে ‘আরব ভূখণ্ডের’ দুই মার্কিন মিত্র সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানে পশ্চিমাবিরোধী সরকার হটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য স্বার্থরক্ষায় তাদের অনুগত সরকার বসাতে চায় এই পাঁচ দেশ। এ প্রকল্প নিয়ে এতদিন গোপনে গোপনে কাজ করে আসছিল নেতারা।

এবার এ মিশন বাস্তবায়নে সক্রিয় হচ্ছে মোসাদসহ সৌদি-আমিরাতি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সরকার বদল প্রকল্প দ্রুততর করতে বুধবার জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশনের ফাঁকেই বৈঠকে বসে দেশগুলো।

আর এর মাধ্যমে এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে বসেই ইরানের সরকারবিরোধী কার্যক্রমে ঘি ঢালল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আয়োজনে বৈঠকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে যোগ দেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদেল আল জোবায়ের, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতি রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবা ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ইয়োসি কোহেন।

তেহরানে রুহানির সরকার উৎখাতে নতুন করে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান (ইউএএনআই) শীর্ষক বৈঠকটি নিউইয়র্ক শহরে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোল্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের ও আমিরাতি রাষ্ট্রদূত আল ওতাইবা কথা বলেন।

সবার মুখেই এক কথা, যেকোনো মূল্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে (ইরান) হটাতে হবে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বলেন, ‘সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ভেতর থেকেই তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে হবে। না হলে এটা সম্ভব নয়।’

আল ওতাইবা বলেন, রুহানিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে এবং এটাই প্রধান নিয়ামক। আমি মনে করি, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি কি হবে সেক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারে তেহরানের বিষয়ে বাইরের দেশগুলোর নীতি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিকে একঘরে করে ফেলতে হবে। তিনি আরও বলেন, আর এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সমর্থন থাকতে হবে।

ওয়াশিংটন ইরানে সরকার উৎখাতের চেষ্টায় আছে বলে স্বীকার করেছেন সাবেক কংগ্রেসম্যান ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রন পল। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ফের মুজাহিদিনে খালকের মাধ্যমে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। এর অর্থ হচ্ছে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো সেখানে কাজ করছে। তেহরানের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিয়োগ পাওয়ার আগেই মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ইরানে সরকার পরিবর্তন।

সে সময় বোল্টন লিবিয়ার উদাহরণ টেনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি গিউলিয়ানি বলেছেন, ট্রাম্প ইরানে এ পরিবর্তনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version