জাপানের কিয়োটোতে একটি অ্যানিমেশন স্টুডিওতে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একজন পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কিয়োটো অ্যানিমেশন কোম্পানির স্টুডিওতে এক ব্যক্তি গোপনে প্রবেশ করে কোনো অজানা এক ধরণের তরল পদার্থ স্প্রে করে।

জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনো অন্তত ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি, তবে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার শরীরে চোট থাকায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

কীভাবে ঘটনা জানা গেলো?
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিন তলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভবনটিতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

কিয়োটোর একজন পুলিশ সদস্য সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানায় যে, এক ব্যক্তি ‘তরল পদার্থ স্প্রে করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুরিও পেয়েছে।

তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক কী – সেবিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

ঘটনার বর্ণনা দেয়ার সময় বিবিসির টোকিও প্রতিনিধি রুপার্ট উইংফিল্ড-হেইসকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিস্ফোরণের শব্দের সাথে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা যায় এবং পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ভবনের সবচেয়ে উপরের তলায় এখনো অনেক ভুক্তভোগী থাকতে পারে এবং সেখান থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে বলে জানান টোকিও প্রতিনিধি।

এএফপি’কে দমকল বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ‘তিনতলা ভবনের ওপর থেকে আরো বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে বের করে আনার চেষ্টা করছি আমরা, যাদের মধ্যে অনেকে হয়তো নিজেরা নড়াচড়াও করতে পারেন না।’

জাপানের কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তত ২৩ জনকে ‘কার্ডিও পালমোনারি অ্যারেস্ট’ হওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে – জাপানে যেই পরিভাষা প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, এমন ভুক্তভোগীদের জন্য যারা মারা গিয়েছে কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি।

একজন দমকল কর্মকর্তা জানায় অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগীকে ভবনের সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন লাগার সময় ভবনে প্রায় ৭০ জন ছিলেন।

বিভিন্ন খবর থেকে জানা যাচ্ছে, হাসপাতালে প্রায় ৩৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

সন্দেহভাজন সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে?
স্থানীয়ভাবে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই সংস্থার সাবেক কর্মচারী ছিলেন না এবং স্টুডিওর সাথে তার সরাসরি কোনো সম্পর্কও ছিল না।

কয়েকটি জাপানি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দাবি করছে, আগুন ছড়িয়ে পরার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানকার একটি স্টেশনের দিকে দৌড়ে গিয়ে সেখানে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

‘চুল ঝলসানো অবস্থায় এক ব্যক্তি মাটিতে পড়েছিলেন এবং আশেপাশে রক্তাক্ত পদচিহ্ন ছিল’, ওই এলাকায় থাকা ৫৯ বছর বয়সী এক নারী কিয়োদো সংবাদ সংস্থাকে জানান।

স্টুডিওটি সম্পর্কে কী জানা যায়?
কিয়োটো অ্যানিমেশন, যা কিওআনি হিসেবও পরিচিত, ১৯৮১ সালে নির্মিত হয়।

জাপানের বেশকিছু জনপ্রিয় অ্যানিমেশন শো নির্মাণ করেছে এই স্টুডিওটি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাদের শোক প্রকাশ করেছেন

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version