গতকাল  সকালে কুমিল্লার বরুড়া থানার গন্ডামারা গ্রামের সাবেক শিবির নেতা মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়িতে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশী চালিয়েছে। স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারাও এ তল্লাশীতে অংশ নেয়। বরুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে তারা শিবির নেতা মাজহারের সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে তাকে ধরতে তার বাড়িতে ঘেরাও করে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের সময় মাজহার তার বাড়িতে না থাকায় তাকে ধরতে না পেরে পুলিশ ফিরে যায়।
জানা যায়, মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিবির ব্রিটিশ ল বাংলাদেশ ’ ব্র্যাঞ্চের সাবেক সভাপতি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। দেশে অবস্থানকালে তার আওয়ামী সরকার বিরোধী কর্মকান্ড সরকার সমর্থক নেতা কর্মীরা কিছুটা ভুলে গেলেও মাজহারের অনলাইনে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাজহারকে ধরতে তার বাড়িতে যায়। তাকে না পেয়ে তার বাবাকে পুলিশ হুমকি দিয়ে বলে যায় মাজহার যদি সরকার বিরোধী কর্মকান্ড না বন্ধ করে তবে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হবে। এসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীরা তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলে মাজহার রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ না করলে তার পরিবারকে হেনস্থ করা হবে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের কয়েকটি গাড়ী এসে অতর্কিতভাবে আমাদের বাড়ী ঘেরাও করে ফেলে। তাদের সাথে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা অংশ নেয়। তারা সাথে করে মাজহারের ছবি নিয়ে এসেছিল। পুলিশ ও ছাত্রলীগ আমাদের বাড়ী তছনছ করে ফেলে। তারা মাজহারকে না পেয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের শারীরিকভাবে টর্চার করে ও সবাইকে হুমকি ধামকি দিয়ে যায় এবং মাজহারকে পেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পুলিশ মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে না পেয়ে স্থানীয় বাজারে মাজহারের ছবি সম্বলিত একটি লিফলেট বিতরণ করে যাতে লেখা ছিল ‘‘মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ধরিয়ে দিন‘‘। মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বর্তমান অবস্থান কোথায় জানতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা জানান, সে এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছে।
এদিকে স্থানীয় আরেক সূত্রে জানা যায়, মাজহারের বাবা স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। এঘটনার আগেও তাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কয়েকবার হেনস্থা করে। আর মাজহারের বড় ভাই মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (শামীম) এঘটনার আগের সপ্তাহে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরপর থেকে তাকে সরাসরি মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শিবির নেতা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া এর আগেও বাংলাদেশে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তার পরিবারের মধ্যে আতংক এবং এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে।

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version