এশিয়ান বাংলা, ঢাকা : কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ এবং উপাচার্যের বাসায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উপাচার্যের বাসায় হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

“এছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পক্ষ থেকে করা একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে।” তবে এসব মামলায় মোট কয়জনকে আসামি করা হয়েছে বা আসামির তালিকায় কাদের নাম রয়েছে- সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলায় কী কী ক্ষতির কথা বলা হয়েছে, সে তথ্যও জানা যায়নি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা রোববার ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে রাতে পুলিশ তাদের রাবার বুলেট-কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এরপর বিক্ষোভ আর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে সারা রাত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে আন্দোলনকারীদের। এরই মধ্যে রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভ্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় পাঁচ শতাধিক তরুণ সেখঅনে ছিল। তারা ভেতরে ঢোকে গেইট ভেঙে। তাদের অনেকেরই মুখ ছিল কাপড় দিয়ে ঢাকা।

দুই তলা ওই বাসভবনের ঘরে ঘরে ঢুকে জানালার কাচসহ প্রায় প্রতিটি আসবাবপত্র ও ভাঙার মত প্রায় সবকিছুই তারা ভেঙে ফেলে। এমনকি বাথরুম ও রান্নাঘরও তারা তছনছ করে। ভবনের সিসি ক্যামেরাগুলোও ভেঙে ফেলা হয়।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান পরদিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাসায় যারা এসেছিল তারা মুখোশ পড়ে এসছিল। লাশের রাজনীতি করতে এসেছিল। প্রাণনাশের জন্য এসেছিল। দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসেছিল।”

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই হামলা চালিয়েছে ‘বহিরাগত সন্ত্রাসীরা’। এর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ওই হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকালে সংসদে বলেন, “যারা ভাংচুর লুটপাটে জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। লুটের মাল কোথায় আছে, তা ছাত্রদেরই বের করে দিতে হবে।”

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version